যে অনুষঙ্গো কোনো উদ্দীপকের সাথে নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়ার সংযোগ স্থাপিত হয় তাকে উদ্দীপক প্রতিক্রিয়া অনুষজ্ঞঙ্গ বলে
রশিক্ষণ ও কর্মসম্পাদন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত, কিন্তু এক নয়। অভ্যাস ও অনুশীলনের ফলে আচরণের ধারার তুলনামূলক দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তনই হলো শিক্ষণ।
অপরদিকে, আচরণের এই পরিবর্তন পরিমাপ করা যায় কর্মসম্পাদনের মাধ্যমে। কার্য সম্পাদন হচ্ছে কোনো ব্যক্তি একটি বিশেষ মুহূর্তে যা করে। অর্থাৎ শিক্ষণ হলো কি হলো না অথবা কতটুকু শিক্ষণ হলো তা পরিমাপ করা হয় কর্মসম্পাদনের সাহায্যে। টলম্যানের মতে, শিক্ষণের সময় আচরণের যে পরিবর্তন হয় তা সুপ্ত থাকে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত অনুরূপ কর্মসম্পাদনের সুযোগ না আসে ততক্ষণ পর্যন্ত এই পরিবর্তনের বাহ্যিক প্রকাশ লক্ষ করা যায় না।
জামিল সাহেবের ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা ও ভুল সংশোধনের মাধ্যমে শিক্ষন আলোচনা প্রযোজ্য।
কোনো সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে এলোমেলোভাবে চেষ্টা করলে ভুল হবে। ভুল করা, আবার চেষ্টা করা- এভাবে বারবার প্রচেষ্টার মাধ্যমে একসময় সমস্যা সমাধানের কৌশল আয়ত্তে আসে বারবার এলোমেলো প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিক্ষণ করার প্রক্রিয়াকে প্রচেষ্টা ও ভুল সংশোধনের মাধ্যমে শিক্ষণ বলা হয় এ ধরনের শিক্ষণের বিশেষ অর্থ এই যে, এখানে প্রাণী সমস্যা সমাধানের উপায় না জেনে বা না বুঝে চেষ্টা শুর করে এবং ভুল করতে করতে শেষে সমাধান খুঁজে পায় এ ধরনের শিক্ষণ পদ্ধতিতে যান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রাধান্য বেশি।
এডওয়ার্ড এল, থর্নডাইক হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি সুসংবদ্ধভাবে এই ধরনের করণশিক্ষণের অনুধ্যান করেন। তিনি ঘোষণা করলেন যে, ইতর প্রাণীর বিচার-বিবেচনার ক্ষমতা খুবই সীমিত এবং তারা কেবল চেষ্টা ও ভুল সংশোধনের মাধ্যমে শিখে থাকে। এ পদ্ধতিতে কোনো প্রাণীতে কোনো নতুন পরিবেশের মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রাণীটি চেষ্টা ও ভুল সংশোধনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজে। অনেক প্রচেষ্টার পর সে হঠাৎ এমন প্রতিক্রিয়া করে যাতে সফলকাম হয় বারবার প্রচেষ্টার ফলেই উদ্দীপকের সাথে প্রতিক্রিয়ার এই বন্ধনটি সুদৃঢ় হয়
জামিল সাহেবের প্রচেষ্টা ও ভুল সংশোধনের মাধ্যমে শিক্ষলতে থর্নডাইকের ধাঁধা-বাক্স পরীক্ষণের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা যায়।
থর্নডাইক ধাঁধাঁ-বাক্সে (Puzzle box) একটি ক্ষুধার্ত বিড়াল রাখেন এবং ধাঁধাঁ-বাক্সের বাইরে খাবার রাখেন। বাক্সটিতে একটি দরজা আছে যা ভিতর থেকে হুড়কা দিয়ে আটকানো। ক্ষুধার্ত বিড়ালটি প্রথমে মিউ মিট শব্দ করে এবং দেয়ালে নখ দিয়ে আঁচড় কাটে। বিড়ালটি লোহার তারে আঁচড় কামড় দিতে থাকে এবং যেকোনো ছিদ্র পথ দিয়ে ঠেলে বের হবার চেষ্টা করে। এভাবে এলোমেলো প্রচেষ্টার ফলে হঠাৎ করে পাদানীতে চাপ পড়ে। পাদানীটি একটি হুড়কার সাথে সংযুক্ত পাদানীতে চাপ লাগার ফলে হড়কা সরে আসে এবং দরজা খুলে যায়। কিন্তু বিডালটি টের পেল না কীভাবে দরজা খুলে গেল। সে বাইরে বের হয়ে খাবার খেল। আবার তাকে ঐ বাক্সে রাখা হলো। এবারও তার মধ্যে অনুরূপ আচরণ দেখা গেল এবং একইভাবে বাক্স থেকে বের হয়ে খাবার খেল। বিড়ালটিকে বাক্সে ঢোকানো এবং দরজা খুলে খাবার খাওয়ার পরবর্তী সময় ধীরে ধীরে কমতে থাকল। এভাবে বেশ কয়েকবার প্রচেষ্টার পর দেখা গেল যে বিড়ালটি দরজা খোলার কৌশলটি শিখে ফেলেছে।
উদ্দীপকের জামিল সাহেব কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে সমস্যাটি সমাধানের জন্য এলোমেলোভাবে চেষ্টা করেন। তিনি বার বার ভুল করার এক পর্যায়ে সঠিক সমাধান বের করে ফেলেন। সমস্যাটির সমাধান যখন সম্ভব হয় তখন এটি সমাধানের সফলতা তাকে ঐ সমাধান প্রকিয়াটি পুনরায় অনুসরণ করতে উদ্বুদ্ধ করে।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, জামিল সাহেবের সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়াটি যথার্থই থর্নডাইকের আবিষ্কৃত প্রচেষ্টা ও ভুল সংশোধনের মাধ্যমে শিক্ষণ হিসেবে অভিহিত করা যায়।
Related Question
View Allখুব সহজভাবে বলতে গেলে স্মৃতি হলো তথ্য সংরক্ষণের এমন ক্ষমতা যা পরবর্তী সময়ে ব্যবহার করা যায়।
বলবৃদ্ধি শিক্ষণ প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে বলে তাকে শিক্ষণের অন্যতম উপাদান বলা হয়। বর্ধন ক্রিয়া বা বলবৃদ্ধি হলো এমন কোনো শর্ত বা অবস্থা যা সংযোগকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এর ফলে উদ্দীপক-উদ্দীপক সংযোগ বা উদ্দীপক প্রতিক্রিয়া সংযোগ প্রতিষ্ঠিত ও শক্তিশালী হয়ে থাকে। ক্ষুধার্ত প্রাণী সঠিক প্রতিক্রিয়া করার পর যদি খাবার না পায় তাহলে সে এই প্রতিক্রিয়াটি আর শিখবে না। তবে বলবর্ধক পেলে উক্ত প্রতিক্রিয়াটি সে আরও বেশি করবে। তাই প্রেষণার উপযুক্ত বর্ধনক্রিয়া শিক্ষণের একটি প্রয়োজনীয় উপাদান।
উদ্দীপকের মায়ার ক্ষেত্রে শিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত 'সংযোগ বা অনুষজ্ঞঙ্গ' ফুটে উঠেছে।
শিক্ষণের ক্ষেত্রে সর্বদাই কতকগুলো সাধারণ শর্ত বা উপাদান উপস্থিত থাকে। এসব শর্তসমূহের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো সংযোগ বা অনুষঙ্গ। প্রকৃতপক্ষে কোনো স্থান বা কালে দুটি ঘটনার মধ্যে যোগাযোগ স্থাপিত হওয়াকে সংযোগ বা অনুষঙ্গ বলে। দুটি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত ঘটনা পাশাপাশি ঘটলেও শিক্ষণ তরান্বিত হয়। দুই ধরনের সংযোগ রয়েছে। যথা-উদ্দীপক সংযোগ; যেমন- আগুন ও ধোঁয়া এ দুটি উদ্দীপক আমরা একইসাথে প্রত্যক্ষ করি। দ্বিতীয়টি উদ্দীপক প্রতিক্রিয়া সংযোগ যেমন-রাস্তার গাড়ি চালাতে গিয়ে লাল বাতি গাড়ি থামানো এবং সবুজ বাতি দেখে গাড়ি চালানো শুরু করা। এভাবে সংযোগ বা অনুষঙ্গ শিক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
উদ্দীপকের দিকে লক্ষ করলে দেখতে পাই, একদিন মায়া ঘুম থেকে উঠে তার মাকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না। পরবর্তীতে জুতার সেলফে মায়ের জুতার অনুপস্থিতি দেখে সে বুঝতে পারে তার অফিসে গেছেন। এখানে দুটো ঘটনার মধ্যে সংযোগ বা অনুষঙ্গ স্থাপিত হয়েছে। প্রথমত, মায়ের অনুপস্থিতি এবং দ্বিতীয়ত জুতার সেলফে জুতা না থাকা এভাবে কোনো স্থানে বা কালে দুটি ঘটনার মধ্যে সম্পর্ক বা যোগাযোগ তৈরি হওয়াকে সংযোগ বা অনুষঙ্গ বলে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে মায়ার ক্ষেত্রে শিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অনুষঙ্গ ফুটে উঠেছে।
হ্যাঁ। আমেনা বেগমের পরামর্শ ছায়ার মতো অন্য শিক্ষার্থীদের স্মৃতিকে উন্নত করতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।
আমরা যা শিখি আর যা কিছু ভুলে যাই এ দুয়ের পার্থক্য হলো স্মৃতি। তবে আমাদের সবার স্মৃতিশক্তি এক রকম নয়। এক রকম না হলেও স্মৃতির বিভিন্ন উপাদান যথা: শিক্ষণ, সংরক্ষণ, পুনরুদ্রেক, প্রত্যভিজ্ঞা প্রভৃতিকে অনুশীলনের মাধ্যমে স্মৃতিকে উন্নত করা যায়। স্মৃতিকে উন্নত করার কিছু কৌশল রয়েছে যার মধ্যে আবৃত্তি, যুক্তিনিষ্ঠ শিক্ষণ, সামগ্রিক শিক্ষণ, যথাযথ অনুষঙ্গ, সময়ের ব্যবধানে পুনরাবৃত্তি, স্মৃতি, সংকেত, গভীর মনোযোগ, তাল ও ছন্দ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। কোনো পাঠ মুখস্থ করার সময়ে একই সঙ্গে অনেকবার চেষ্টা না করে সময়ের ব্যবধানে পুনরাবৃত্তি করলে পাঠ-অভ্যাস দ্রুত হয় এবং দীর্ঘদিন মনে রাখা সম্ভব হয়। কোনো পাঠ্যবিষয়ের মধ্যে তাল ও ছন্দের উপস্থিতি থাকলে তার সাহায্যে শিখলেও শেখাটি দ্রুত হয়।
প্রদত্ত উদ্দীপকের বর্ণনায় দেখা যায়, ছায়া সহজে পড়া মনে রাখতে পারে না। তার মা আমেনা বেগম তাকে একই বিষয় বার বার পড়া, ছন্দের মাধ্যমে মনে রাখা, শিক্ষণীয় বিষয়গুলোর মাঝে মাঝে পুনরাবৃত্তি এ ধরনের কিছু নিয়ম শিখিয়ে দিয়েছিলেন। বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা গেল ছায়া খুবই ভালো ফলাফল করেছে। এ থেকে বোঝা যায় ছায়ার স্মৃতির উন্নতি হয়েছে। কেননা, সে পাঠ্যবিষয় মনে রাখতে পেরেছে বলেই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পেরেছে।
পরিশেষে উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, আমনো বেগমের পরামর্শ ছায়ার মতো অন্য শিক্ষার্থীদের স্মৃতিকে উন্নত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারবে।
অন্তর্দৃষ্টিমূলক শিক্ষণ হলো কোনো সমস্যা সমাধানে ক্ষেত্রে হঠাৎ করে সঠিক সমাধানের আবিষ্কার, যা প্রাথমিকভাবে প্রচেষ্টা ও ভুল সংশোধনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
বলবর্ধক উদ্দীপক বা উদ্দীপক প্রতিক্রিয়া সংযোগ প্রতিষ্ঠা ও শক্তিশালী করার মাধ্যমে শিক্ষণকে ত্বরান্বিত করে।
বলবৃদ্ধি বা বলবর্ধক শিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বা অবস্থা যা সংযোগকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। সঠিক প্রতিক্রিয়া করার পরও যদি ক্ষুধার্ত প্রাণী খাবার না পায় তাহলে সে এই প্রতিক্রিয়াটি আর করবে না। আবার বলবর্ধক পেলে প্রাণীর সঠিকভাবে ওই প্রতিক্রিয়া পুনরায় করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। এভাবে সংযোগকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে বলবর্ধক শিক্ষণকে ত্বরান্বিত করে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!